শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা -বাংলা প্রবন্ধ রচনা

ভূমিকা: 

সমগ্র বিশ্ব-প্রকৃতি একটা সুনিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খলা ও নিয়মের বন্ধনে আবদ্ধ। গ্রহ-নক্ষত্রের ঘূর্ণন, পরিক্রমা, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, ঋতু পরিবর্তন সবকিছুই নিয়মের অধীন। শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা আছে বলে মহাবিশ্বের যাবতীয় কর্মকাণ্ড অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মহাবিশ্বের মতো মানবজীবনেও শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ।

নিয়ম-শৃঙ্খলার গুরুত্ব: 

মানুষ সামাজিক জীব। তাই তারা একাকী বাস করতে পারে না। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে মানুষকে বাঁচতে হয়। সমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে সবরকম সামাজিক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সংঘ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনো নিয়মের অধীন। নিয়ম-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে অশান্তি, অরাজকতা দেখা দেয় এবং পারিবারিক, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় বন্ধন বিপর্যস্ত হয়। 

নিয়ম-শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় না। ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে উন্নতির জন্যে প্রয়োজন শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা। কাজেই সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক জীবনে; খেলার মাঠে, যুদ্ধক্ষেত্রে, কলকারখানায়, স্কুল-কলেজ সর্বত্রই নিয়ম- শৃঙ্খলা পালন করে চলা উচিত ।

আরও পড়ুন :- নিয়মানুবর্তিতা- বাংলা রচনা - Sikkhagar

পারিবারিক জীবনে নিয়মানুবর্তিতা: 

পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যদি নিজ ইচ্ছানুযায়ী চলে তবে পরিবারটির ঐক্য ধ্বংস হয়ে যায়। সুখী এবং সমৃদ্ধ পারিবারিক জীবনের জন্যে নিয়মানুবর্তিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । 

বাল্যজীবনে নিয়মানুবর্তিতা: 

বাল্যকাল থেকেই প্রত্যেক মানুষকে নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। যদি শিশুদেরকে তাদের ইচ্ছামাফিক চলতে দেওয়া হয় তবে তারা সঙ্গ দোষে নষ্ট হয়ে যাবে । 

সমাজজীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা: 

সামাজিক জীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার প্রয়োজন অপরিসীম। সফল ও মহৎ ব্যক্তিরা আহার- বিহারে, কাজ-কর্মে, চাল-চলনে, আচার-অনুষ্ঠানে সর্বত্রই একটি নিয়ম- শৃঙ্খলার ব্যবস্থা করে গিয়েছেন। নিয়ম-শৃঙ্খলা ব্যাহত হলে সমাজ গড়ে উঠত না এবং গড়ে উঠলেও তা পুনরায় ভেঙে যেত। সমাজের সর্বত্র নিয়ম-শৃঙ্খলা আছে বলেই আমরা সমাজজীবনে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারছি।

আরও পড়ুন :- আমার দেখা একটি মেলা - রচনা : class 6, 7, 8

ছাত্রজীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা : 

ছাত্রজীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ‘পড়ার সময় পড়া আর খেলার সময় খেলা'— একথা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যে অপরিহার্য । ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মমাফিক লেখাপড়া করার অভ্যাস গঠন করতে হবে। শিক্ষার্থী যদি নিয়মিত স্কুলে যায়, নিয়মিত পড়ালেখা করে তবেই ভালো ফল করতে পারবে। আর তারা যদি পড়ালেখায় অমনোযোগী হয় তাহলে কৃতকার্য হতে পারবে না।

মহামানবদের জীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা:

সক্রেটিস, প্লেটো, নিউটন, আইনস্টাইন প্রমুখ জ্ঞানী ও গুণিজন নিয়মানুবর্তিতাকে জীবনে অলংকৃত করে রেখেছিলেন। তাই তো তাঁরা চির অমর হয়ে আছেন পৃথিবীর সব মানুষের আত্মার সঙ্গে একান্ত আপন হয়ে মিশে।

উপসংহার; 

জীবনের সবক্ষেত্রে শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য । শৃঙ্খলাহীন জীবন কখনো সঠিকভাবে চলতে পারে না। এজন্যে মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলতে হবে। তাহলে মানবজীবন সুখী, সুন্দর ও সার্থক হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url