প্রোটোপ্লাজম কাকে বলে? প্রোটোপ্লাজমের গঠন, কাজ, বৈশিষ্ট্য

সংজ্ঞা :-  সূক্ষ্ম পর্দা দ্বারা আবৃত কোষের মূল গঠন উপাদান যার মধ্যে নিউক্লিয়াস, প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগিবডি প্রভৃতি ভাসমান বা ডুবন্ত অবস্থায় থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে। 

প্রোটোপ্লাজমের সংজ্ঞায় বিজ্ঞানী হাক্সলি বলেন - Protoplasm is the physical basis of life অর্থাৎ প্রাণপংকই হলো জীবনের ভৌত ভিত্তি ।

প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্য :-

  • ১. এটি বর্ণহীন, স্বচ্ছ, আঠালো পদার্থ দ্বারা গঠিত ।
  • ২. এটি স্থিতিস্থাপক ।
  • ৩. এটি চলনক্ষম ।
  • ৪. এটি দানাদার।
  • ৫. এটি বিভিন্ন উত্তেজনায় সাড়া দেয়।

প্রোটোপ্লাজমের গঠন :-

ভৌত গঠন :-

ভৌতভাবে প্রোটোপ্লাজমকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়-

  • ক. প্লাজমা পর্দা বা প্লাজমা মেমব্রেন।
  • 3. সাইটোপ্লাজম
  • গ. নিউক্লিয়াস

ক. প্লাজমা মেমব্রেন : প্রতিটি সজীব কোষের প্রোটোপ্লাজম যে সূক্ষ্ম,  স্থিতিস্থাপক, বৈষম্যভেদ্য, লিপো-প্রোটিন দ্বারা গঠিত সজীব দ্বিস্তরী ঝিল্লি দিয়ে আবৃত থাকে, তাকে প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি (Cell membrane) বলে।

খ. সাইটোপ্লাজম : প্রোটোপ্লাজমের যে অংশ নিউক্লিয়াসের বাইরে থাকে তাকে সাইটোপ্লাজম বলে।

গ. নিউক্লিয়াস : নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার অপেক্ষাকৃত ঘন ও অস্বচ্ছ পাতলা আবরণী দিয়ে ঘেরা গোলাকার যে বস্তুটি দেখা যায় তাকে নিউক্লিয়াস বা প্রাণকেন্দ্র বলে।

আরও পড়ুন :- কোষ প্রাচীর কি। কোষ প্রাচীর ও কোষ ঝিল্লির পার্থক্য। গঠন ও কাজ। 

রাসায়ণিক গঠন:-

রাসায়নিকভাবে এটি কতগুলো জৈব ও অজৈব পদার্থ সমন্বয়ে গঠিত-

ক. জৈব পদার্থ : প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ইত্যাদি জৈব পদার্থ সমন্বয়ে প্রোটোপ্লাজম গঠিত।

খ. অজৈব পদার্থ : অজৈব পদার্থের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার খনিজ পদার্থ, পানি ও দ্রবীভূত গ্যাস উল্লেখযোগ্য। এর শতকরা প্রায় ৭৫-৯৫ ভাগ পানি ।

প্রোটোপ্লাজম এর কাজ

কোষের যাবতীয় কাজ প্রোটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়।

নিম্নে এর কাজ দেয়া হলো -

  • ১. এটি বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
  • ২. এর মধ্যে আমিষ, শ্বেতসার ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য সঞ্চিত থাকে ।
  • ৩. এর মধ্যে দেহের শক্তি সঞ্চিত থাকে ।

প্রোটোপ্লাজম কে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?

প্রোটোপ্লাজম হলো কোষের অভ্যন্তরে স্বচ্ছ, আঠালো এবং জেলির ন্যায় অর্ধতরল কলয়ডালধর্মী সজীব পদার্থ। এতে জীবনের সব গুণ বিদ্যমান। প্রোটোপ্লাজমের বহুবিধ পরিবর্তনের কারনেই জীবনের বৈশিষ্ট্যাবলি দেখা যায়। এজন্যই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়।

আরও পড়ুন :- কোষ ঝিল্লি কাকে বলে? কোষ ঝিল্লির গঠন, কাজ, চিত্র বিস্তারিত 

প্রোটোপ্লাজম ও সাইটোপ্লাজম এর পার্থক্য:-


প্রোটোপ্লাজম সাইটোপ্লাজম
প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে নিউক্লিয়াস রয়েছে। সাইটোপ্লাজমের মধ্যে নিউক্লিয়াস নেই ।
কোষের অভ্যন্তরে ভ্যাকুয়াল বাদ দিয়ে সমস্ত সজীব অংশটিকে প্রোটোপ্লাজম বলে। কোষের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়াস বাদ দিয়ে বাকি স্বচ্ছ জলির মতো অংশটিকে সাইটোপ্লাজম বলা হয়।
প্রোটোপ্লাজম এর তিনটি অংশ- কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস সাইটোপ্লাজমের দুইটি অংশ সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকা এবং কোশ অঙ্গানু ।
প্রোটোপ্লাজম হলো বংশগতির ধারক ও বাহক। সাইটোপ্লাজম বংশগতির ধারক ও বাহক নয়।
প্রোটোপ্লাজম জীবনের ভৌত ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সাইটোপ্লাজম জীবনের ভৌত ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয় না।

FAQs

১। প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ শতকরা কত?
উত্তরঃ এতে ৭০ থেকে ৯০% পানি থাকে।

২। প্রোটোপ্লাজম কোথায় থাকে?
উত্তরঃ সাধারণত প্রত্যেক সজীব কোষের মধ্যে প্রোটোপ্লাজম থাকে।

৩। প্রোটোপ্লাজমের কয়টি অংশ?
উত্তরঃ তিনটি অংশ।  
  • ১.কোষঝিল্লি বা প্লাজমা মেমব্রেন। 
  • ২. সাইটোপ্লাজম। 
  • ৩. নিউক্লিয়াস।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url