সাক্ষরতা অভিযান - বাংলা রচনা [ Class - 6, 7, 8, 9, 10 ]

উপস্থাপনা  ঃ 

'চোখ থাকিতে অন্ধ যারা, আলোর দুনিয়ায়

সিন্ধু সেচে বিষ পায় তারা অমৃত নাহি পায়।

শিক্ষাহীন ব্যক্তি আর চক্ষুহীন অন্ধ মানুষের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। নিরক্ষরতার কারণে কেবল ব্যক্তি জীবনই অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হয় না। এটা কোন সমাজ ও দেশের উন্নয়নের পথেও প্রকট বাধাস্বরূপ। তাই কোন জাতির উন্নতির জন্যে সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের গুরুত্ব অপরিহার্য।

নিরক্ষরতা বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা ঃ 

বাংলাদেশের শোচনীয় নিরক্ষরতা সভ্যতার কলঙ্কস্বরূপ। যুদ্ধ, ব্যবসা- বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য, রাজনৈতিক উত্তরণ এককথায় জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে আমাদের স্বাবলম্বী হতে হবে। এর জন্যে সর্বাগ্রে আমাদের নিরক্ষরতার কলঙ্ক দূর করা আবশ্যক।

বাংলাদেশের নিরক্ষরতা ঃ 

একটি দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর হার দেখলেই বলা যায়, দেশটি কতটুকু ধনী বা গরিব। আমাদের দেশে শিক্ষিতের হার ১৯৭৪ ২৫% ছিল। বর্তমানে ৭৩.৯৫%। এ সংখ্যায় যারা শুধু নাম সই করতে পারে তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সত্যিকার শিক্ষিতের হার এর চেয়ে বহু কম ।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্তরায় ঃ 

শিক্ষা ছাড়া আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয় । উন্নত দেশগুলো যেমন- জাপান, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে শিক্ষিতের হার ৯৮%-১০০% । সুতরাং, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বহুলাংশে শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল।

আরও পড়ুন :- আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস - বাংলা রচনা - Class 6, 7, 8, 9, 10

নিরক্ষরতা ও কৃষি উন্নয়ন ঃ 

দেশের প্রায় ৭০% লোক গ্রামে বাস করে। গ্রামের লোকদের মধ্যে শিক্ষিতের হার শহরের তুলনায় কম । এ নিরক্ষর মানুষগুলো পরিচালনা করছে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি ব্যবস্থা। ফলে কৃষিপ্রধান দেশ হয়েও প্রতিবছর ২০ লক্ষ টনের বেশি খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

জনসংখ্যা বিস্ফোরণ : 

আমাদের প্রধান জাতীয় সমস্যা জনসংখ্যা বিস্ফোরণ । অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জ্ঞান দেয়া কঠিন। নিরক্ষরতার অভিশাপ দূর করেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে বাস্তব পদক্ষেপ ঃ 

নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্যে আমাদের বর্তমান গণশিক্ষা কার্যক্রম বেগবান করে আরো বাস্তবমুখী করতে হবে। প্রতিটি গ্রামে ও মহল্লায় বয়স্কদের জন্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সেগুলোতে পর্যাপ্ত উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।

জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ঃ 

দেশের প্রচলিত অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থার আলোকে সকলেরই পাড়া-প্রতিবেশীকে শিক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে একটি সামাজিক আন্দোলন (Social movement) সৃষ্টি করতে হবে।

আরও পড়ুন :- আরও পড়ুন :-নিরক্ষরতা দূরীকরণ - বাংলা  রচনা | Sikkhagar

গণশিক্ষার বিস্তার : 

যে কোন উন্নত দেশে নিরক্ষরতার প্রতি সেদেশের কর্তৃপক্ষ নির্লিপ্ত নয়। তাই আমাদের দেশের নিরক্ষরতা দূরীকরণে গণশিক্ষা কর্মসূচীর ব্যাপক বিস্তার ঘটানো অতীব জরুরি।

বয়স্ক শিক্ষার বিস্তার ঃ 

নিরক্ষরতা দূরীকরণে বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ফলপ্রসূ। তাই বয়স্ক শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপে নিরক্ষরতা দূরীকরণে সহায়ক হবে ।

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ঃ 

আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। তাই আগামী প্রজন্ম যাতে নিরক্ষরতার অভিশাপে অভিশপ্ত না হয়, সেজন্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।

উপসংহার ঃ 

শিক্ষা কেবল মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি প্রদান করে না । এটা মানুষের মানবিক মূল্যবোধকেও জাগিয়ে তোলে, যা মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায় । কাজেই নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্যে দেশের সরকার ও সচেতন জনগণের যত্নবান হওয়া উচিত।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url