বৃত্তিমূলক শিক্ষা : বাংলা রচনা । Sikkhagar

উপস্থাপনা :

যে কোনো জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। এ শিক্ষা সাধারণত দু'প্রকার। যেমন সাধারণ শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা । সভ্য মানুষ হিসেবে সমাজে বাস করতে হলে প্রত্যেক মানুষকে কতকগুলো মৌলিক বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হয়। যেমন- সাধারণ মানবীয় গুণ, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য, স্বাস্থ্যরক্ষা বিধি প্রভৃতি। 

এগুলো সাধারণত শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত করা যায়। বৃত্তিমূলক শিক্ষা বলতে যে শিক্ষা দ্বারা মানুষ জীবিকা অর্জনে কোনো বিশেষ বৃত্তি বা পেশা সম্বন্ধে হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে তাকেই বোঝায়। যেমন- ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিল্প, ব্যবসার-বাণিজ্য প্রভৃতি ।

বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ঃ 

বৃত্তিমূলক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যতীত কোনো জাতিই বৈষয়িক উন্নতি লাভ করতে পারে না। পাশ্চাত্য দেশগুলোর উন্নতির মূল কারণ হচ্ছে সেসব দেশে পরিচালিত বৃত্তিমূলক শিক্ষা । আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষা লাভ করেও শিক্ষিত সম্প্রদায় জীবিকা অর্জন করতে পারছে না। ক্রমেই ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে । 

ফলে আমাদের সমাজ জীবনে দিন দিন দারুণ হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে।এ অবস্থা হতে জাতিকে মুক্তি দিতে হলে বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন দরকার। একমাত্র বৃত্তিমূলক শিক্ষাই প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এনে দিতে পারে ।

আরও পড়ুন :- কর্মমুখী শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা -রচনা [Class - 6, 7, 8 ,9 ,10]

বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রকারভেদ ঃ 

বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে আবার দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায় । একটি হচ্ছে বিশেষ বৃত্তিমূলক শিক্ষা। যাঁরা ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে চায়, তারা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো পাস না করলে উক্ত বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে পারে না । অপরটি হচ্ছে সাধারণত বৃত্তিমূলক শিক্ষা । এর জন্য বড় কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না, বরং প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষালাভ করলেই যে কেউ এ বৃত্তিমূলক শিক্ষালাভ করতে পারে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার কারিগর, মোটর চালক, ঘড়ি, সাইকেল প্রভৃতি মেরামত করার জন্য উচ্চশিক্ষা লাভ করার প্রয়োজন হয় না। এসব কারিগরি বিষয়ে কেবল হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করলেই শিক্ষার্থী জীবিকা অর্জনে সমর্থ হয় ।

প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ঃ 

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো সেকেলে এবং পশ্চাৎপদ। কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো পুঁথিগত বিদ্যার প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে, যার সাথে বাস্তব জীবনের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই । ফলে আমাদের অর্থনৈতিক দুর্গতির পরিসমাপ্তি ঘটছে না। তাই পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের আদলে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনগঠন করতে হবে। তবে সম্প্রতি শিক্ষার উন্নয়ন কল্পে বিভিন্ন বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। আশা করা যায় এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনী শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন :- শিক্ষা সফর - বাংলা রচনা class 6, 7, 8, 9, 10

বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রসারের উপায় : 

আমাদের দেশে যেসব মেধাবী উৎসাহী ছাত্র কারিগরি শিক্ষা লাভে আগ্রহী, সরকারি- বেসরকারি সহযোগিতায় তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের দ্বারা দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করা যেতে পারে । এ উপায় অবলম্বনে কারিগরি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা লাভের ব্যাপারে একদিকে যেমন বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে, 

অপরদিকে প্রতিবছর বহু সুশিক্ষাপ্রাপ্ত কারিগর শিল্প-কারখানায় নিয়োজিত হয়ে শিল্প প্রসারে সহায়তা করবে। দেশ শিল্প-কারখানায় বিদেশি কারিগর নিয়োগের দ্বারাও এ সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। বিদেশি কারিগরগণ যদি শিল্প-কারখানা পরিচালনার সাথে সাথে দেশি কারিগরদেরকে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেন, তবে অল্পকালের মধ্যেই দেশে কারিগরি শিক্ষা প্রসার লাভ করবে।

উপসংহার : 

বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান আহরণের জন্য পুঁথিগত বিদ্যার প্রয়োজন আছে। তবে আমাদের মতো দেশের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা একান্ত অপরিহার্য । বর্তমানে যদিও কিছু কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম । এ ব্যাপারে শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

Post a Comment

0 Comments

Bottom Post Ad