বই পড়ার আনন্দ - প্রবন্ধ রচনা

ভূমিকা :- 

বই অতীত আর বর্তমানের সংযোগ সেতু। বই জ্ঞানের আধার। একটি ভালো বই বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো। যুগে যুগে মানুষ বই পড়ে বাড়িয়ে নিয়েছে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জগৎ। পুস্তক পাঠ মানুষের মনের ভেতর অনেক আনন্দময় ভুবন তৈরি করতে পারে। সেই আনন্দময় ভুবনে ডুব দিয়ে সংসারের নানা জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

বই পড়ার গুরুত্ব :- 

বই পড়ার মাধ্যমে আমরা সত্য, সুন্দর, কল্যাণ ও ন্যায়ের শাশ্বত রূপের সাথে পরিচিত হই। এক ঘণ্টার বই পড়া আমাদের ভ্রমণ করিয়ে আনতে পারে বিশ্বজগৎ। চোখের সামনে উন্মোচন করে দিতে পারে মহাকাশের অজানা রহস্য। বই আমাদের মনের প্রসার ঘটায় । এছাড়া জীবনের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান কারও দ্বারস্থ না হয়ে বইয়ের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়। নির্মল আনন্দ লাভের উৎস হিসেবে বইয়ের বিকল্প কিছু নেই। 

পারস্যের কবি ওমর খৈয়াম বলেছেন, 'রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা, যদি তেমন বই হয়।' কবি ওমর খৈয়াম তাই মৃত্যুর পরেও স্বর্গে গিয়ে যাতে তার পাশে একটি বই থাকে, সেই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। বিশাল এ পৃথিবীর কতটুকুই বা আমরা জানি । পৃথিবীর বিপুল বৈচিত্র্যের দিকে তাকালে আমাদের মনে অদম্য কৌতূহল আর অনন্ত জিজ্ঞাসার উদ্রেক হয়। 

আরও পড়ুন :- আমাদের বিদ্যালয় - রচনা : ( ক্লাস ৬, 7, 8 )

জীবন ও জগতের সান্নিধ্যে এসে মানুষ যে বিপুল জ্ঞান সঞ্চয় করেছে, তা বিধৃত হয়েছে বইয়ের কালো অক্ষরে। সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান, মানবজাতির অগ্রগতির ইতিহাস, সভ্যতা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি হৃদয়ে ধারণ করতে হলে আমাদের বইয়ের সান্নিধ্যে যেতে হবে। মননশক্তি অর্জন আর হৃদয়শক্তি বিস্তার করতে হলেও প্রয়োজন বই পড়া।

বই পড়ার আনন্দ সেরা আনন্দ :- 

বিনোদনের হাজারো মাধ্যম আছে পৃথিবীতে। কিন্তু সেই বিনোদন অনেক সময় নির্মল হয় না। ভালো বইয়ের সান্নিধ্য মানুষের অশান্ত মনে এনে দিতে পারে স্বর্গীয় সুখ, হৃদয়ে বইয়ে দিতে পারে আনন্দের বন্যা। প্রিয় কোনো অমর কাব্যের রসময় পক্তি অমৃতসুধার মতো লাগে অবসর কোনো মুহূর্তে। ভুলিয়ে দিতে পারে জীবন চলার পথের অনেক কণ্টকময় যন্ত্রণা । অবসর আর অবকাশের সময়গুলো আমরা ভরিয়ে তুলতে পারি বই পড়ার আনন্দে ।

বই পড়ার আনন্দকে আমরা রাজপ্রাসাদে প্রবেশের আনন্দের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। ধরা যাক, আমি কোনো রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করব। যেখানে রয়েছে স্তরে স্তরে সাজানো প্রিয় ফুলের সমারোহ । যেখানে পাখিরা ডাকছে মধুর কণ্ঠে। রয়েছে ঈপ্সিত ঝরনার চঞ্চলতা। চন্দনসুগন্ধি ছড়িয়ে আছে চারদিকে। রাজপ্রাসাদের একেক কক্ষে একেক রকম আয়োজন। যেখানে প্রবেশ করলেই সৌন্দর্যস্রোতে অবগাহন করা যায়। 

আরও পড়ুন :- আমার পড়া একটি বইয়ের গল্প - বাংলা প্রবন্ধ রচনা

অপরদিকে একটি ভালো বই সুসজ্জিত আনন্দময় রাজপ্রাসাদের মতোই। জ্ঞানান্বেষী পাঠক হলে তো কথাই নেই, আনন্দ আর জ্ঞানার্জন- পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুটি কাজ একই সঙ্গে করতে পারবে সে রাজপ্রাসাদে বসেই। কেউ বই পড়ে পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য, কেউবা চাকরিতে উন্নতির আশায়, আবার কেউ শুধুই জ্ঞানার্জনের জন্য পড়ে বই। তবে যারা আনন্দের জন্য বই পড়ে, তারাই শ্রেষ্ঠ পাঠক । কারণ, পৃথিবীতে অনুপম শ্রেষ্ঠ আনন্দ কেবল বইয়ের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায় । 

উপসংহার :- 

বইয়ের পাতার কালো অক্ষরে অমর হয়ে আছে মানুষের চিরন্তন আত্মার দ্যুতি। বই পড়া মানুষের মনে সঞ্চার করে অনাবিল আনন্দ। মনকে সতেজ ও দৃষ্টিকে প্রসারিত করে বই। ফরাসি দার্শনিক আনাতোল ফ্রাঁস বলেছেন, 'বই পড়ার মাধ্যমে আমরা মাছির মতো মাথার চারদিকে অজস্র চোখ ফুটিয়ে তুলতে পারি । সেই চক্ষুপুঞ্জ দিয়ে একসাথে পৃথিবীর অনেক কিছু দেখে নিতে পারি।'

বই পড়ায় যে কত আনন্দ তা গ্রন্থপিপাসু মানুষ মাত্রই জানেন। সেই আনন্দের স্পর্শ যিনি একবার পেয়েছেন, তাঁর অন্তর হয়েছে ঐশ্বর্যময়, হয়েছে আলোকিত । সৌন্দর্যময় জগতে অবগাহনের শক্তি আছে একমাত্র তাঁরই । তিনিই কেবল গাইতে পারেন-

'আলো আমার আলো ওগো

আলোয় ভুবন ভরা।'

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url