জনসেবা / সমাজসেবা - বাংলা প্রবন্ধ রচনা

উপস্থাপনা ঃ 

সমাজের সকল মানুষের কল্যাণ সাধনই মহৎ জীবনের আদর্শ। সামাজিক জীব হিসেবে সমাজের হিত সাধন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব । এ দায়িত্ববোধ থেকেই 'মানুষ মানুষের জন্যে' চেতনার জন্য। তাই যুগে যুগে মহান ব্যক্তিরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তথা সমাজসেবা করে গেছেন । 

জনসেবার মাধ্যমেই মানুষ তার কল্যাণ চেতনার প্রকাশ ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন করতে পারে । সেবা ও ভালবাসার বলে মানুষ পৃথিবীতে রচনা করতে পারে এক স্বর্গীয় আবাস ভূমি, রচনা করতে পারে এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রগাঢ় নিকুঞ্জ। কবির ভাষায়-

“সকলের তরে সকলে আমরা,

প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”

জনসেবার স্বরূপ : 

নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সাহায্য ও সেবা করার নামই জনসেবা। সাধারণ অর্থে দুঃস্থ, দরিদ্র, অন্ধ, অনাথ, বিকলাঙ্গ, অসহায়দের সেবা করার নাম জনসেবা ।

জনসেবার গুরুত্ব : 

জনসেবাই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম। তাই এর গুরুত্বও অধিক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “আমার নিকট সেই ব্যক্তি অধিক প্রিয় যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়।” সমাজ সেবার মাধ্যমেই মানুষের উন্নতি এবং মানুষের উন্নতিই সমাজের উন্নতি । মানুষকে অবজ্ঞা করে সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়া যায় না। সমাজের অবহেলিত মানুষের সেবা করলেই স্রষ্টার সেবা হয় ।

আরও পড়ুন :- প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্য - বাংলা প্রবন্ধ রচনা

সমাজ সেবার উদ্দেশ্য : 

সমাজ সেবায় একটি আনন্দ লুকায়িত থাকে। যে আনন্দ পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। অনেকে রাজত্ব লাভ করেও সমাজ সেবার মত আনন্দ পায় না। বিভিন্ন জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সেবার মাধ্যমে জনসেবার উদ্দেশ্য সাধিত হয়।

বিশ্বব্যাপী জনসেবামূলক সংগঠন ও তাদের ভূমিকা ঃ 

মানবতার কল্যাণের জন্য আজ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। OIC, Red Cresent Society, UNO, UNICEF, UNESCO প্রভৃতি সংস্থার অবদান অনস্বীকার্য। এ সব আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশের দুঃসময়ে যেমন- যুদ্ধ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারী ইত্যাদিতে এগিয়ে আসে এবং তাদের কল্যাণের হাত বাড়িয়ে দেয় । এভাবে জনগণকে সেবা করার চেতনা বিশ্বব্যাপী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জনসেবার বিভিন্ন দিক : 

জনসেবার অনেকগুলো দিক আছে। যেমন- আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেয়া। প্রতিবেশীদের বিপদে-আপদে সাহায্যের হাত প্রসারিত করা। অর্থহীনকে অর্থ দেয়া, অসুস্থ মানুষের সেবা করা, পথচারীকে পথ চলতে সাহায্য করা, অন্নহীনকে অন্ন, পিপাসার্তকে পানীয় দেয়া। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেও জনসেবা করা যায় ।

আরও পড়ুন :- পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য - রচনা [ Class - 6, 7, 8, 9 ,10 ]

জনসেবার আদর্শ : 

প্রতিটি ধর্মেই জনসেবার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতি ধর্মের সারকথা হলো আল্লাহর সৃষ্টিকে ভালবাসা এবং সেবা করা। এ পৃথিবীতে জনসেবার জ্বলন্ত নিদর্শন পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (স)।

জনসেবায় বাধাসমূহ ঃ 

সমাজ সেবায় বাধা অনেক। এদের মধ্যে নিরক্ষরতা, দারিদ্র্য, সেবামূলক মনোভাবের অভাব, মতের অমিল, স্বার্থপরতা, মানবিক মূল্যবোধের অভাব ইত্যাদি।

উপসংহার ঃ 

মানুষ মাত্রই চায় জীবন ও জীবিকার পূর্ণ নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্য; কিন্তু তা সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে জড়িত। পরের কল্যাণে আত্মত্যাগের মাঝে যে অনাবিল আনন্দ লাভ করা যায়, বিপুল বিত্ত-বৈভবও তা মানুষকে দিতে পারে না । কাজেই সমাজের অন্যদের কল্যাণে কাজ করাতেই জীবনে সার্থকতা। নিঃস্বার্থ সমাজসেবার মাঝেই প্রকৃত সুখ নিহিত

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url