সময়ানুবর্তিতা - রচনা : Class 6, 7, 8, 9 এবং SSC

ভূমিকা : 

মানবজীবনকে সফল করে তোলার জন্য চরিত্রের যে গুণটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সময়ানুবর্তিতা। মানবজীবন অর্থবহ করে তোলার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে সময়ানুবর্তিতাকে বিবেচনা করা যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশ্রম করে মানুষকে সাফল্যের ফসল তুলতে হয়।

সময়ানুবর্তিতার সংজ্ঞা : 

সাধারণত সময়ানুবর্তিতা বলতে ঠিক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার উদ্যোগকে বোঝায় । প্রত্যেকটি কাজের জন্যই নির্দিষ্ট সময় আছে । সে কাজ শেষ করার জন্য সেই সময়কে কাজে লাগালেই সময়ানুবর্তিতা রক্ষিত হয়।

সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সময়ের ধারা ক্রমাগত চলছে । সৃষ্টি লয় না পাওয়া পর্যন্ত এমনি অব্যাহত গতিতে সময় চলতে থাকবে । এই সময়ের গতিধারায় মানবজীবন খুব অল্প সময়ের অধিকারী। প্রাপ্ত সময়টুকু যথাযথভাবে কাজে লাগানোর মধ্যেই সময়ানুবর্তিতার বৈশিষ্ট্য নিহিত । যে কাজের জন্য যতটুকু সময় নির্ধারিত সেই কাজ সেই সময়ের মধ্যে করাকেই সময়ানুবর্তিতা বলে ।

সময়ানুবর্তিতার প্রয়োজনীয়তা : 

মানুষ তার স্বল্পকালীন জীবনে বিশেষ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে নিজের পরিচয় স্পষ্ট করে তোলে। মানুষের জীবন অত্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যে তাকে অনেক কাজ করতে হয় । এজন্য জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কর্মে নিয়োগ না করলে মানুষকে বহু কর্মই অসম্পূর্ণ রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয় ।

আরও পড়ুন :- সময়ের মূল্য - বাংলা রচনা [ Class - 6, 7, 8 ,9 ,10] এবং HSC 

মানুষ জন্মগ্রহণ করার পর থেকেই তার ওপর অসংখ্য কর্তব্য এসে পড়ে। এসব কর্তব্য সম্পাদনের জন্যই সৃষ্টিকর্তা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে থাকেন ৷ তাই নির্দিষ্ট কর্তব্য শেষ না করলে তার জীবনের বহু কর্মই অসম্পূর্ণ থেকে যায় । সেজন্য জীবনের এক মুহূর্ত সময়ও নষ্ট না করে পুরো সময়কে কর্মে যথাযথ নিয়োগ করাই সবার অন্যতম প্রধান কর্তব্য।

সময় সচেতনতা : 

সময় অত্যন্ত চঞ্চল। এটা ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টার কাঁটা ধরে খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এটা এক মুহূর্তেও থেমে থাকে না। পেছন থেকে অনুনয়-বিনয় করলেও ফিরে আসে না। অর্থ নষ্ট হলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের সাহায্যে তা আবার অর্জন করা যায়। স্বাস্থ্য নষ্ট হলে ওষুধ খেয়ে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা যায়। কিন্তু সময় একবার চলে গেলে তাকে শত চেষ্টা করেও ফিরিয়ে আনা যায় না । অতএব কালক্ষেপণ করা কারও উচিত নয়। সময় অর্থের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ।

উপসংহার : 

মানুষকে সময়ানুবর্তী হতে হবে। আর মানুষকে সময়ানুবর্তী হতে হলে তার কর্তব্যনিষ্ঠার যথাযথ পরিচয় দিতে হবে সময়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে। সময়ের কাজ সময়মতো করার মন-মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তা হলেই সাধনায় সিদ্ধি লাভ সম্ভব। মনে রাখতে হবে, সময়ের আর এক নাম সম্পদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url