ব্যাকরন কাকে বলে , কত প্রকার এবং ব্যাকরন পাঠের প্রয়োজনীয়তা

সংজ্ঞা :- যে শাস্ত্র অধ্যায়ন করিলে ভাষা শুদ্ধ রূপে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা যায় তাকে ব্যাকরণ বলে।

ব্যাকরণের প্রকারভেদ

ব্যাকরণ প্রধানত চার প্রকার । যথা—

  • ১। বর্ণনামূলক ব্যাকরণ (Descriptive Grammar)
  • ২। ঐতিহাসিক ব্যাকরণ (Historical Grammar)
  • ৩। তুলনামূলক ব্যাকরণ (Comparative Grammar)
  • ৪। দার্শনিক বিচারমূলক ব্যাকরণ (Philosophical বা Psychological Grammar)

১। বর্ণনামূলক ব্যাকরণ : 

বিশেষ বিশেষ কোনো কালের কোনো একটি ভাষারীতি ও তার প্রয়োগ সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া এ জাতীয় ব্যাকরণের বিষয় এবং সেই বিশেষ কালের ভাষার যথাযথ ব্যবহার নির্দেশও এর লক্ষ্য।

২। ঐতিহাসিক ব্যাকরণ : 

কোনো নির্দিষ্ট যুগের ভাষাগত প্রয়োগরীতি আলোচনা করে আলোচ্য ভাষার প্রকৃত রূপটি উদ্ঘাটন ও বিকাশের ইতিহাস পর্যালোচনা করাই এর উদ্দেশ্য।

৩। তুলনামূলক ব্যাকরণ : 

বিশেষ কোনো কালের বিভিন্ন ভাষার গঠন ও প্রয়োগরীতির তুলনামূলক আলোচনা এ জাতীয় ব্যাকরণের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

৪। দার্শনিক বিচারমূলক ব্যাকরণ : 

ভাষার অন্তর্নিহিত চিন্তা ও প্রণালিটি আবিষ্কার ও অবলম্বন করে সাধারণভাবে কিংবা বিশেষভাবে ভাষার রূপের উৎপত্তি ও বিবর্তন ঘটে, তার বিচার-বিশ্লেষণ করা এ জাতীয় ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

আরও পড়ুন :-  ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় কয়টি। ব্যাকরণের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজনীয়তা 

ভাষাকে শুদ্ধরূপে জানা ও ব্যবহার করার জন্য ব্যাকরণ পাঠ অপরিহার্য। কারণ ভাষার চলার পথ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া ব্যাকরণের কাজ। নিম্নে ব্যাকরণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো-

১। ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি জানার জন্য : 

মনের ভাব যে কোনো উপায়ে প্রকাশ করা যায়। তা ইশারায় বা ইঙ্গিতে, কথায় বা চিত্রে। তবে ভাষা দিয়ে মনের ভাবকে সঠিকরূপে প্রকাশ করতে হলে ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, ব্যাকরণ ভাষার স্বরূপ বা প্রকৃতি বিচার বিশ্লেষণ করে ভুল-ত্রুটি নির্ণয় করে শুদ্ধতার পথ দেখায় ৷

২। সঠিক উচ্চারণ ও বানান শেখার জন্য : 

ভাষা লেখার জন্য যেমন বর্ণের প্রয়োজন, তেমনি উচ্চারণের জন্য ধ্বনির প্রয়োজন। এ বর্ণ ও ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণ ও স্থাপন ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাংলা ভাষায় ‘ণ’, ‘ন’, ‘শ’, ‘ষ’, 'স' এর প্রচলন আছে। এছাড়া প্রচলন আছে ‘উ’ ‘উ’ এবং যুক্তবর্ণের। এগুলোর উচ্চারণ পার্থক্য, বানানবিধি ব্যাকরণ পাঠেই জানা যায়।

৩। শব্দের ব্যবহার, গঠন ও অর্থ নির্ণয়ের জন্য : 

শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের সঠিক অর্থ নিরূপণের জন্য এবং নতুন শব্দ গঠন করার ক্ষেত্রে রূপতত্ত্ব সম্বন্ধে জ্ঞান থাকা দরকার। শব্দ গঠনের উপায় হচ্ছে উপসর্গ, প্রত্যয়, সন্ধি ও সমাস। এগুলো সম্বন্ধে জ্ঞান না থাকলে সামান্য অর্থ প্রকাশের জন্য বৃহৎ বাক্য ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু তা শ্রুতিমধুর হয় না। তাই ‘সিংহ চিহ্নিত আসন' না বলে আমরা বলি ‘সিংহাসন’। ব্যাকরণ ছাড়া এসব শব্দের কল্পনাই করা যায় না। অথচ সাহিত্যের ক্ষেত্রে এসব শব্দ ভাষাকে অনেক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধি দান করেছে।

আরও পড়ুন :-  সাধু, চলিত ও আঞ্চলিক ভাষা কাকে বলে? এদের বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ 

৪। বাক্য গঠন ও ভাব প্রকাশের জন্য : 

শুধু শব্দ নয়, বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে এবং বাক্যের অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রেও ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজন রয়েছে। বাক্যের সাধারণ অর্থ, ব্যঞ্জনাময় অর্থ ও ভাবার্থ রয়েছে। তাছাড়া সরল বাক্য ও জটিল বাক্য গঠন প্রক্রিয়া বাক্যতত্ত্বের বিষয়াধীন। অনেক সময় একই পদ বাক্য গঠন কৌশলে কখনো বিশেষ্য, কখানো বিশেষণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। উক্তি পরিবর্তন ও বাগধারার ব্যবহার বাক্যতত্ত্বই নির্ণয় করে দিতে পারে।

৫। কবিতা ও গানের ছন্দ ও অলঙ্কার জানার ইচ্ছা : 

মানুষের ভাব প্রকাশের বাহন কেবল গদ্য নয়, বরং কবিতাই সাহিত্যের প্রধান সাক্ষী। আর এই কবিতা ও গানের ছন্দ ব্যাকরণেই বিষয়িভুক্ত। ছন্দের শুদ্ধতা, ত্রুটি-বিচ্যুতি ব্যাকরণই নির্দেশ করে। এছাড়া ভাষার অলঙ্কার প্রয়োগের জন্য ক'টি নিয়ম আছে। ব্যাকরণই এর প্রয়োগ ও পদ্ধতি নির্ণয় করে। অলঙ্কার প্রয়োগের ফলে ভাষা শ্রুতিমধুর ও সার্থকভাবে প্রকাশে সক্ষম হয় ৷

৬। সাহিত্যের দোষ-গুণ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ : 

সাহিত্যের ছাত্রদের জন্যও ব্যাকরণ পাঠের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা আছে। সাহিত্যের দোষ, গুণ, রীতি, অলঙ্কার ইত্যাদি সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করে সাহিত্যের রসাস্বাদন করতে হলে ব্যাকরণ পাঠ করা অপরিহার্য । 

Post a Comment

0 Comments

Bottom Post Ad