ইসলামের আলোকে - জিহাদ ও সন্ত্রাসের মধ্যে পার্থক্য

উপস্থাপনা : সন্ত্রাস নির্মূল করে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হচ্ছে জেহাদ। শরীরের কোনো অঙ্গে পচন ধরলে চিকিৎসক যদি প্রয়োজনে অস্ত্রোপাচার করে, সেটাকে যেমন হত্যা না বলে সেবা বলা হয়, তেমনি জেহাদ হচ্ছে সন্ত্রাস রোধের চিকিৎসা সেবা। অতএব সন্ত্রাস ও জেহাদ সম্পূর্ণ বিপরীত ও ভিন্নার্থক; কোনোক্রমেই দুটোকে সমার্থক কল্পনা করা যায় না। 

অথচ দেখা যায়, বিপথগামী কিছু লোক ইসলামের শত্রুদের মদদপুষ্ট হয়ে জেহাদের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। নিচে দলীল উপস্থাপনপূর্বক এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো ।

জেহাদ ও সন্ত্রাসের মাঝে পার্থক্য : -

আল্লামা শায়খ জাফর ইদরীস বলেন,                                  

فا لْعَلَاقَةُ بينَ الإِرْهَابِ وَالْإِسْلَام كَالْعَلَاقَةِ بَيْنَ النُّورِ وَالظَّلامِ مِنْ حَيْثُ التَّضَادِ - فَلاَ يُمْكِنُ أَنْ يَجْتَمِعَا    فِي مَكَان وَاحِدٍ أَبَدًا .

অর্থাৎ, “সন্ত্রাস ও ইসলামের (জেহাদের) সম্পর্ক আলো আঁধারের মতো বিপরীতার্থক; তাই এ দুটো কখনো একত্র হতে পারে না।” বাহ্যিক দৃষ্টিতে এক রকম মনে হলেও এ দুয়ের মধ্যে রয়েছে বিরাট ব্যবধান। যেসব দিকের দ্বান্দ্বিক পার্থক্য সাপেক্ষে সন্ত্রাস ও জেহাদের স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট হয়, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো- 

ক. আভিধানিক পার্থক্য :

১।  অভিধানবেত্তাদের মতে جهاد শব্দটি فعال-এর ওযনে বাবে مفاعلة-এর মাসদার। এর আভিধানিক অর্থ হলো- প্রচেষ্টা তথা শক্তি সামর্থ্য ব্যয় করা।

১। পক্ষান্তরে সন্ত্রাসের আরবি প্রতিশব্দ হলো- মায়া তথা জনমনে ত্রাস বা ভীতির সঞ্চার করা ।

আরও পড়ুন :- ইসলাম অর্থ কি ?কাকে বলে। ইসলামের মৌলিক বিষয় কয়টি ও কি কি

পরিভাষাগত পার্থক্য :

১।  ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় জেহাদ হলো- আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ এবং ইসলামের বিজয়ার্থে কাফেরদের সাথে লড়াই তথা সংগ্রাম করাকে জেহাদ বলা হয় ।

১। আর সন্ত্রাস হলো-বেসামরিক, নিরপরাধ ও সাধারণ লোকদেরকে হত্যা করার জন্য ত্রাস সৃষ্টি করাকে সন্ত্রাস বলা হয় ।

গ. শ্রেণিগত পার্থক্য :

১। জেহাদ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা—

ক. জেহাদে আকবর ও খ. জেহাদে আসগর । 

১। অপরদিকে সন্ত্রাস দু'প্রকারে বিভক্ত। যথা-

ক. জাতীয় সন্ত্রাস ও খ. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস । 

ঘ. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগত পার্থক্য :

১। জেহাদের লক্ষ্য হলো, সকল প্রকার অন্যায় অবিচার, জুলুম নির্যাতন, শিরক ও কুফরের মূলোৎপাটন করে আল্লাহর যমীনে তাঁর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা। 

১। পক্ষান্তরে সন্ত্রাসের লক্ষ্য হলো, কোনো বিশেষ স্বার্থ হাসিল করার জন্য অত্যাচার, হত্যা প্রভৃতি হিংসাত্মক ও ত্রাসজনক পথ বেছে নেয়া।

আরও পড়ুন :-মুনাফিক কাকে বলে? মুনাফিকের আলামত বা লক্ষণ কয়টি ও কি কি

ঙ. হুকুম তথা ব্যবহারিক পার্থক্য :

১। জেহাদের হুকুম হলো, আল্লাহর যমীনে তাঁর দীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য জানমাল ব্যয় করার মাধ্যমে জেহাদ তথা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো ফরয।
১। অপরদিকে সন্ত্রাসের বিধান হলো এটা সুস্পষ্ট হারাম।

২। জেহাদের ব্যাপারে আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ রয়েছে। যেমন-

-١ اِنْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَاهِدُوا بأموالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ .

২। পক্ষান্তরে সন্ত্রাস সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ সতর্ক করে দিয়েছেন। যেমন-

-٤ لَا تُفْسِدُوا فِى الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا

৩। রাসুল (স) জেহাদকে উত্তম আমল বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
৩। পক্ষান্তরে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার জন্য রাসূল (স) নির্দেশ দিয়েছেন। 

৪। আল্লাহ তায়ালা তাঁর দীন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত মুজাহিদদেরকে ভালোবাসেন। 
৪। পক্ষান্তরে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদেরকে তিনি অপছন্দ করেন।

৫। যারা মুজাহিদ তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর নিকট মহাপুরস্কার। 
৫। অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের পুরস্কার হলো জাহান্নাম। যেমন মহান আল্লাহ

উপসংহার : সন্ত্রাসের শেষকথা হচ্ছে জাহান্নাম; আর জেহাদের শেষফল হচ্ছে জান্নাত । সন্ত্রাস সর্বদাই নিন্দিত; আর জেহাদ নন্দিত। অতএব যারা জেহাদের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, তারা বিপথগামী; তাদের সুপথে ফিরাতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url