অধ্যবসায় - বাংলা রচনা ১০ পয়েন্ট - [ PDF ৪টি রচনা ]

ভূমিকাঃ  

কঠোর সাধনা ও পরিশ্রম ব্যতীত কখনোই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। আর এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে মানুষ বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়। এসব বাধা অতিক্রম করে প্রচুর পরিশ্রম আর ধৈর্যের মধ্য দিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে আনার গুনটিই অধ্যাবসায়। 

অধ্যবসায় কী: 

'অধ্যবসায়' শব্দের অর্থ-অবিরাম সাধনা। কোনো কাজে সফল হওয়ার জন্যে মানুষের ক্রমাগত যে চেষ্টা তার নামই অধ্যবসায়। মানব চরিত্রের যেসব গুণ জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে পারে অধ্যবসায় তার মধ্যে অন্যতম। 

এ অনন্য গুণের সাহায্যে অসাধ্য সাধন করা যায়। প্রকৃতপক্ষে অধ্যবসায় হলো এক ধরনের মানসিক শক্তি । যার মানসিক বল যত বেশি, সে তত বেশি অধ্যবসায়ী। পরাজয় কখনো অধ্যবসায়ীর পথে বাধা হতে পারে না ।

অধ্যবসায়ের প্রথম ধাপ :

সাফল্য লাভের আশায় ব্যর্থ হয়ে নিজেকে অসহায় মনে করে কাজ ছেড়ে দেয়, সে জীবনে কখনো উন্নতি লাভ করতে পারে না। পৃথিবীতে যে কোনো কাজে প্রথম উদ্যোগে সাফল্য লাভ করা সহজ নয়। যে মানুষ কাজের প্রথম উদ্যোগে অধ্যবসায়ী হতে না পারলে জীবনে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া যায় না। 

পৃথিবীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ইতিহাস পড়লে জানা যায়, তাদের অনেকেই প্রথম উদ্যোগেই কোনো কাজে সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। এজন্য বারবার বিভিন্ন কৌশলে, নতুন আঙ্গিকে চষ্টা করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন :- বাংলা রচনা - অধ্যবসায় [ Class - 6, 7, 8 ,9 ,10] এবং HSC | PDF

অধ্যবসায়ের গুরুত্ব: 

কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, উদ্যম ও অবিচল সংকল্প অধ্যবসায়ের অঙ্গ। মানুষের জীবনে সাফল্য এবং ব্যর্থতা দু-ই আছে । কিন্তু সব ব্যর্থতাই সাময়িক। ব্যর্থতাকে জয় করার জন্যে দরকার ক্রমাগত চেষ্টা। ব্যর্থতার নৈরাশ্যকে দূর করার জন্যে প্রয়োজন অধিক উৎসাহ নিয়ে কর্তব্যকর্মে এগিয়ে যাওয়া। কারণ অধ্যবসায় সহকারে চেষ্টা করলে দেরিতে হলেও সফলতা একদিন আসবেই। 

সেদিন পূর্বের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে গিয়ে সফলতার মুকুট মাথায় শোভা পাবে ।পৃথিবীতে যা কিছু মহৎ, যা কিছু সুন্দর, যা কিছু কল্যাণকর সবই অধ্যবসায়ের দ্বারা অর্জিত হয়েছে। অধ্যবসায়ী না হলে কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। পৃথিবীতে বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করার শক্তি যার যত বেশি, সাফল্যও তার তত বেশি এবং জীবনযুদ্ধে জয়লাভ করার ক্ষমতাও তার সর্বাধিক।

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়: 

আজকের ছাত্ররাই আগামীদিনে জাতিকে নেতৃত্ব দেবে। সুতরাং ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। অলস ও শ্রমবিমুখ ছাত্র-ছাত্রীরা জীবনে কখনো বিদ্যার্জন করতে পারে না। অধ্যবসায়ী ছাত্র-ছাত্রীরা অল্প মেধাসম্পন্ন হলেও সফলতা লাভ করতে পারে। 

কোনো ছাত্র যদি প্রথম বা দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় অকৃতকার্য হয়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকে, তবে সে আর সফলতা অর্জন করতে পারে না। কোনো ছাত্রকে একবার বিফল হয়ে বসে থাকলে চলবে না, তাকে দ্বিগুণ উৎসাহে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে।

আরও পড়ুন :- সময়ের মূল্য - বাংলা রচনা [ Class - 6, 7, 8 ,9 ,10] এবং HSC 

অধ্যবসায় ও প্রতিভা: 

কঠোর পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ সাধনা ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা লাভ করা যায় না। লেখাপড়া, শিল্প, সাহিত্য, গবেষণাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা নির্ভর করে অধ্যবসায়ের ওপর। প্রতিভা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত বিশেষ গুণ। অধ্যবসায় প্রতিভাকে শাণিত করে।

প্রতিভার অধিকারী না হয়েও শুধু অধ্যবসায়ের গুণে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা যায়। বিজ্ঞানী নিউটন প্রতিভার চেয়ে অধ্যবসায়কে বড় করে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, 'প্রতিভা বলে কিছু নেই। পরিশ্রম এবং সাধনা করে যাও, তাহলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে।'

বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের উদাহরণ : 

বিশ্বের আরো যারা নাম করা লোক তাঁরা প্রত্যেকেই অধ্যবসায়ী ছিলেন। প্লেটো, এরিস্টটল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এডিসন, নিউটন, আইনস্টাইন, আর্কিমিডিস, মহাবীর আলেকজান্ডার প্রত্যেকেই অধ্যবসায়ের চরম পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন :-  আমার প্রিয় শখ - বাংলা রচনা |Sikkhagar

অধ্যবসায় এবং জীবনের উন্নয়ন : 

আমাদের কর্মশীল দৈনন্দিন জীবনে উন্নয়ন ঘটাতে হলে অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই। কেননা কোনো কাজ প্রথমবারেই সফল হবে, একথা কখনোই নিশ্চিত করে বলা যাবে না, আর তা আশা করাও বোকামি। একবার না পারলে বারবার চেষ্টা করা, এটাই জীবনে উন্নয়নের পথকে সুগম করে।

অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত: 

অধ্যবসায়ের এক অতি পরিচিত দৃষ্টান্ত হচ্ছেন স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস । তিনি ইংল্যান্ডের রাজা এডওয়ার্ডের সঙ্গে যুদ্ধে ছয় বার পরাজিত হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। রাজ্যের আশা প্ৰায় ছেড়ে দিয়ে পাহাড়ের এক নির্জন গুহায় হঠাৎ লক্ষ করেন, 

একটি মাকড়সা গুহার দেয়াল বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে পর পর ছয় বার ব্যর্থ হয়। কিন্তু সপ্তম বার সে সফল হয়। এটা দেখে রবার্ট ব্রুস পুনরায় বিপুল উৎসাহ নিয়ে সৈন্য সংগ্রহ করেন এবং সপ্তম বারের যুদ্ধে বিজয়ী হন। আবার অর্ধপৃথিবীর অধিশ্বর নেপোলিয়ন তাঁর কর্মকাণ্ডে অপূর্ব নিদর্শন রেখে গেছেন। 

উপসংহার: 

জাতিকে সমৃদ্ধ করতে অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই । মানুষের জীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব তাই অনস্বীকার্য। প্রতিটি মানুষের উচিত এই বিশেষ গুণের অধিকারী হওয়া। আর তাহলেই ব্যক্তিজীবনে, জাতীয় জীবনে, বিশ্বসভায় মানুষ আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে ।










এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url