রচনা : আমার প্রিয় লেখক - কাজী নজরুল ইসলাম

সূচনা: 

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে সমধিক পরিচিত। তাঁর রচনায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির তাগিদ ধ্বনিত হয়েছে।

জীবনী: 

কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মাত্র আট বছর বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে দুঃখকষ্টে তাঁর বাল্যজীবন কাটে। তিনি গ্রামের মক্তবে বাংলা, আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন। গানবাজনার দিকে ঝোঁক থাকায় লেখাপড়া ছেড়ে একদিন 'লেটো' গানের দলে যোগ দেন। তারপর আসানসোলে এক রুটির দোকানে কাজ নেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের এক ভদ্রলোক তখন আসানসোলের পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি নজরুলের প্রতিভার পরিচয় পেয়ে তাঁকে নিজগ্রাম ময়মনসিংহের দরিরামপুর হাই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন । ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে কবি সৈন্যদলে ভর্তি হন । কিছুদিনের মধ্যেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাকে রণাঙ্গনে যেতে হয়।

সাহিত্যকর্ম: 

বিশ্বযুদ্ধ থেমে গেলে কলকাতায় ফিরে নজরুলের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কবি হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর 'দোলনচাপা', 'বুলবুল', 'ঝিঙেফুল', 'ভাঙার গান', 'বিষের বাঁশী', 'অগ্নিবীণা' ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 

আরও পড়ুন :- আমার প্রিয় শিক্ষক - রচনা for class 1, 2, 3, 4, 5

তা ছাড়া ‘আলেয়া', 'ঝিলিমিলি', ‘পুতুলের বিয়ে’ ইত্যাদি নাটক এবং ‘বাঁধনহারা', ‘মৃত্যুক্ষুধা', ‘কুহেলিকা' ইত্যাদি উপন্যাস তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। নজরুল বহু গান লিখেছেন এবং তাতে সুর দিয়েছেন। 'ধূমকেতু' ও 'লাঙল' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন তিনি ।

পারিবারিক জীবন: 

নজরুলের স্ত্রীর নাম প্রমীলা। বড় ছেলে বুলবুল শৈশবেই মারা যায়। অন্য দুই ছেলের নাম কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ।

শেষ জীবন: 

১৯৪২ সালে নজরুল দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

উপসংহার: 

কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহের কবি, মানবতার কবি। তিনিই আমাদের জাতীয় কবি। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url