প্রবন্ধ রচনা : আমাদের দেশ / বাংলাদেশ

সূচনা :- 

আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। এদেশ শস্য-শ্যামল। এখানে প্রচুর ধান জন্মে। আমাদের মাঠের কৃষক, নায়ের মাঝি, গায়ের বধূ সবাই মনের খুশিতে গান গায়। কবির ভাষায়-

“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি

সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।”

আয়তন ও জনসংখ্যা :- 

আমাদের দেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে এর লোকসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। জনসংখ্যার বেশির ভাগই মুসলিম। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন সম্প্রদায়ের লোক এদেশে মিলেমিশে বসবাস করে।

প্রশাসনিক বিভাগ :- 

বাংলাদেশে ৮টি বিভাগ ও ৬৪টি জেলা আছে। বর্তমানে ৪৯৫টি উপজেলা আছে। আমাদের দেশে গ্রামের সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার ।

বাংলাদেশের সীমা :- 

বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত 

আরও পড়ুন :- ডিজিটাল বাংলাদেশ - রচনা ১৫০, ২৫০ এবং ৫০০ শব্দের

দেশের অধিবাসী :- 

আমাদের দেশের লোকসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বেশির ভাগই মুসলিম। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, জৈন সম্প্রদায়ের লোক এদেশে মিলেমিশে বসবাস করে।

স্বাধীনতা লাভ :- 

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য :- 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের দেশ। প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছায়া ছড়িয়ে আছে সারা দেশজুড়ে। সবুজ বনের আচ্ছাদন, সুবিশাল সুন্দরবন, জালের মত ছড়িয়ে থাকা নদ-নদী, পাহাড়, বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ এদেশের সৌন্দর্যকে নান্দনিকতা দান করেছে। 

এছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি ঋতুবৈচিত্র্যের মধ্যে চমৎকারভাবে প্রত্যক্ষ করা যায়। বার মাসে ছয় ঋতুর এদেশে প্রতিটি ঋতু তার অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে আগমন করে এবং নিজের অনাবিল সৌন্দর্য উপহার দিয়ে বিদায় নেয় ।

ঋতুবৈচিত্র্য :- 

এদেশের প্রকৃতি বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। গ্রীষ্মকালে খাল, বিল, পুকুর, নদী-নালা শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। বর্ষাকালে চারদিক পানিতে ডুবে যায়। শরৎকালে সোনালি ধানে মাঠ ভরে যায়। আর হেমন্তে কুমড়া, লাউ, শিম প্রভৃতি নানারকম

সবজিতে বাজার ভরে যায়। শীতে মাঠ ভরা সোনালি ধান। বসন্তে গাছপালা নতুন পাতায় ভরে যায় ও মাঠে ঘাটে বিচিত্র রঙের ফুল ফোটে। এদেশের মোট ছয়টি ঋতুর বৈচিত্র্য ছয় রকম দেখা যায়।

আরও পড়ুন :- বাংলাদেশের নদ নদী -  রচনা [ class 6, 7, 8, 9, 10 ]

ভূ-প্রকৃতি :- 

বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকাই পলিবাহিত সমভূমি। মধুপুর ও ভাওয়াল গড়, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার কিছু অংশে পাহাড়ও রয়েছে। সুন্দরবনসহ ছোট, বড় বন রয়েছে। জালের মত অসংখ্য নদ-নদী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এদেশে।

বাংলাদেশের খাদ্যশস্য :- 

বাংলাদেশে সব ধরনের খাদ্যশস্য উৎপাদন হলেও এখনো খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই চাহিদা অনুযায়ী বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হয় ।

বাংলাদেশের সোনালি আঁশ :- 

বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট। পাট থেকে কাপড়, কার্পেট, চট, থলে, বস্তা, পাপোশ, দড়ি প্রভৃতি তৈরি হয়। এছাড়া পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি নানা রকম কুটির শিল্পের সামগ্রী এখন আমাদের দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

মানুষের পেশা :- 

বাংলাদেশের মানুষের পেশা বিচিত্র। কামার, কুমার, জেলে, কৃষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বৈজ্ঞানিক, আইনজীবীসহ বহু পেশার মানুষ বিদ্যমান। সব পেশার মানুষ মিলেমিশে এদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক অবস্থা :- 

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া দেশীয় পণ্য রপ্তানি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি ।

আরও পড়ুন :- বাংলা রচনা - বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্য  [ Class 6, 7, 8. 9, 10 ] 

শিক্ষা :- 

এদেশে শিক্ষার হার ক্রমশ বাড়ছে। অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

বাঙালির ভাষা :- 

বাঙালির প্রধান ভাষা বাংলা । সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলে। তবে এদেশে বসবাসকারী উপজাতিদের বিভিন্ন রকম ভাষা রয়েছে।

দর্শনীয় স্থান :- 

বাংলাদেশে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এদেশের কিছু অংশে পাহাড় রয়েছে। রয়েছে সাগর আর অসংখ্য নদ-নদী । বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এবং সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বাংলাদেশের প্রধানতম প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। এদেশের প্রাচীন স্থাপনা, জাদুঘর, প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল ইত্যাদিও দর্শনীয়। এগুলো সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী :- 

বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও চাকমা, গারো, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, তংচঙ্গা ইত্যাদি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোক বসবাস করে। এসব জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে । 

বাংলাদেশের নদনদী :- 

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এদেশের বড় বড় নদী । এছাড়াও অসংখ্য নদী এদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে।

উপসংহার :- 

এমন অপরূপ দেশে জন্মলাভ করে আমরা ধন্য। আমাদের দেশের মতো এত সুন্দর দেশ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url