বাংলাদেশের নদ নদী - রচনা [ class 6, 7, 8, 9, 10 ]

সূচনা: 

বাংলার মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত শত নদী। এদেশের মানুষের সংস্কৃতি, ধর্ম, ইতিহাস, লোককাহিনি আর জনশ্রুতিতেও নদীর কথা বিশেষভাবে পাওয়া যায়। নদীগুলো আমাদের দেশের মাটিকে যেমন উর্বর করেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবিকা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নানাভাবে অবদান রেখেছে। এদেশের অর্থনীতি নদীগুলোর ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল ।

প্রধান নদ-নদী: 

পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী। এছাড়া রয়েছে ছোটো-বড় বহু শাখা-নদী। শাখা-প্রশাখাসহ বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা ২৩০টি।

পদ্মা: 

পদ্মা বাংলাদেশের প্রধান নদী। উত্তর ভারতের হিমালয়ের গঙ্গোত্রী নামক হিমবাহ থেকে এর উৎপত্তি। এটি ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে এসে পদ্মা নাম ধারণ করে আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। ভারতে এই নদীর নাম গঙ্গা। পদ্মা গোয়ালন্দের কাছে এসে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এ মিলিত স্রোত পদ্মা নামেই দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে।

মেঘনা: 

মেঘনা বাংলাদেশের আরেকটি প্রধান নদী। এ নদী আসামের নাগা-মনিপুর পাহাড়ের দক্ষিণ লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরে পদ্মা ও যমুনার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামেই বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এই নদীর বেশ কিছু উপনদী ও শাখানদী রয়েছে।

আরও পড়ুন :- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য - বাংলা প্রবন্ধ রচনা : ২০ পয়েন্ট

যমুনা: 

যমুনা নদীর উৎস হিমালয়। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। তিব্বতের সানপু নদীটি আসামের মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নাম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। দেওয়ানগঞ্জের কাছে এ নদীটি একটু পূর্ব দিকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে এবং অপর শাখাটি দক্ষিণ দিক দিয়ে নামে প্রবাহিত হয়ে পদ্মার সাথে এসে মিশেছে। ধরলা, তিস্তা ও করতোয়া যমুনার প্রধান উপনদী। ধলেশ্বরী যমুনার প্রধান শাখানদী পূর্ব-দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত এর শাখা নদীটির নাম বুড়িগঙ্গা ।

ব্রহ্মপুত্র: 

হিমালয় পর্বতের কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ উৎপন্ন হয়ে তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং রংপুর জেলার কুড়িগ্রামের কাছে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর একটি শাখা দক্ষিণ দিকে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। অপর শাখাটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীর সাথে মিশেছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্বনাম লৌহিত্য।

কর্ণফুলী: 

কর্ণফুলী বাংলাদেশের একমাত্র খরস্রোতা নদী। এটি মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কাসালং, বোয়ালখালি ও হালদা কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী

নদীর সৌন্দর্য: 

ষড়ঋতুর এ দেশে নদীগুলো এক এক সময় এক এক রূপ ধারণ করে। দেখে মনে হয় যেন কোনো চিত্রশিল্পী তার রং তুলি দিয়ে এ চিত্র এঁকে রেখেছেন। নদীর শোভা সত্যিই মনোরম। নদীর দু ধারের কাঁশবন, বাড়ি-ঘর সবকিছু ছবির মতো লাগে। বর্ষায় নদ-নদী ভরে গেলে এদের যৌবনা দেখায়। নদীর পাশের সবুজ ও সোনালি ফসলের খেতের দৃশ্য সত্যি নয়নাভিরাম। নদীর বুকে পালতোলা নৌকার সৌন্দর্য সকলকে মুগ্ধ করে ।

আরও পড়ুন :- বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার : বাংলা প্রবন্ধ রচনা 

নদীর উপকারিতা: 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে নদী ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। আমরা নদীর পানি নানা কাজে ব্যবহার করি। তা ছাড়া স্বল্পব্যয়ে নদীপথে নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমারে করে অতি সহজে যাতায়াত করা যায়। আমাদের গ্রামের হাট-বাজারগুলোর অধিকাংশই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। 

বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরে জেলেরা জীবিকানির্বাহ করে। নদ-নদীতে প্রাপ্ত মাছ আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করে। খরা মৌসুমে নদী থেকে জলসেচের দ্বারা শস্য উৎপাদন করা হয়। কর্ণফুলি নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় ।

নদীর অপকারিতা: 

নদী কখনো কখনো আমাদের অপকারও করে থাকে অতি বর্ষণ হলে কোনো কোনো নদীতে বন্যা হয়। ফলে এসব নদীর পাশের ঘরবাড়ি ও ফসলের খেত ডুবে যায়। আমাদের দেশে প্রতিবছর নদীভাঙনে গৃহহীন হয় অনেক পরিবার। এসব গৃহহীন মানুষের দুঃখের সীমা থাকে না।

উপসংহার: 

নদ-নদীর অবদানে আমাদের এ বাংলাদেশ একদিকে যেমন হয়েছে সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা, তেমনই এদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার পথও হয়েছে সুগম। তাই এদেশের মাটি আর মানুষের সাথে নদ-নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url