ডিজিটাল বাংলাদেশ - রচনা ১৫০, ২৫০ এবং ৫০০ শব্দের

ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা - ১৫০ শব্দ

ভূমিকা:- 

ডিজিটাল বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে রাজনীতি, গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত একটি শব্দ। 

ডিজিটাল বাংলাদেশ কি :-

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার ঘোষণা দিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমরা সংক্ষেপে যা বলছি তা হল, সারা দেশের কর্মকাণ্ডকে আধুনিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিয়ে গতিশীল করে তোলা। 

ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য :-

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হচ্ছে এটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্তরে স্তরে এর অনুন্নত জীবনধারাকে বদলে দিয়ে বাংলাদেশের সমাজকে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করা। 

আরও পড়ুন :-  কম্পিউটার - বাংলা রচনা : ৩য় ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী | PDF

এদেশের মানুষের জীবনযাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবস্থাপনা, কার্য পদ্ধতি, শিল্প বাণিজ্য ও উৎপাদন, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনধারা এক কথায় সমাজের সকল স্তরের সকল কাজকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর হল ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য।

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য:- 

ক. মৌলিক চাহিদা পূরণ। খ. জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।  গ. রাজনীতির ডিজিটাল ধারা। 

উপসংহার :-

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। দেশটিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হলে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।  তবেই প্রতিষ্ঠিত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা - ২৫০ শব্দ

ভূমিকা :- 

বিজ্ঞানের এক একটি আবিষ্কার আমাদেরকে সভ্যতার এক এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। কম্পিউটার আবিষ্কার ও তার ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সভ্যতার চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ের সর্বত্র কম্পিউটার জ্ঞান ও কম্পিউটার জাত উপায়-উপকরনের ব্যবহারের নতুন ও নান্দনিক হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ

ডিজিটাল বাংলাদেশ এর অর্থ:-

ডিজিটাল বাংলাদেশ কি এ বিষয়ে বুঝতে হলে আগে জানতে হবে একটি দেশ কিভাবে ডিজিটাল দেশে পরিণত হতে পারে। একটি দেশকে তখনই ডিজিটাল দেশ বলা যাবে যখন তা 'ই-স্টেট' এ পরিণত হবে। 

অর্থাৎ ওই দেশের যাবতীয় কার্যকরী যেমন সরকারব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি প্রভিতি কম্পিউটার ও  ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। 

শিক্ষা ক্ষেত্রে :-

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রথমে শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষকের লেকচার বা বক্তব্য ভিডিও করে প্রজেক্টর মাধ্যমে দেওয়ালে সাদা পর্দায় তা প্রদর্শন করা যায়। এটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগের আকর্ষণ সহজ পদ্ধতি।  ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে এর পদ্ধতিতে ঘরে বসেও শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। 

আরও পড়ুন :-  রচনা - মোবাইল ফোন : ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী

ডিজিটাল বাংলাদেশ এর লক্ষ্য :-

ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু একটি রাজনীতি সর্বস্ব কোন করণীয় স্লোগান নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হচ্ছে এটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্তরে স্তরে এর অনুন্নত জীবনধারাকে বদলে দিয়ে বাংলাদেশের সমাজকে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করা।

কার্যত এদেশের মানুষের ডিজিটাল পদ্ধতি মূলত সমাজের সকল স্তরের সকল কাজকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর হল ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। 

উপসংহার :-

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। দেশটিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হলে কর্মক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আর উন্নয়ন ঘটাতে হলে কাজের কোন বিকল্প নেই। কাজের মধ্যে দিয়েই ভালবাসতে হবে দেশকে। 

প্রশাসনকে গড়ে তুলতে হবে কার্যকর ও গতিশীল। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে অগ্রসর হতে হবে। তবেই প্রতিষ্ঠিত হবে স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ। 

ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা - ৫০০ শব্দ

ভূমিকা :- 

'ডিজিটাল বাংলাদেশ' বর্তমান সময়ে রাজনীতি, গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের বহুল ব্যবহৃত ও বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। ২০২১ সালে পালিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। তাই বাংলাদেশ সে সময়ের মধ্যে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে।

'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর অর্থ :- 

'ডিজিটাল বাংলাদেশ' কী এ বিষয়কে বুঝতে হলে আগে জানতে হবে একটি দেশ কীভাবে ডিজিটাল দেশে পরিণত হতে পারে। একটি দেশকে তখনই ডিজিটাল দেশ (Digital Country) বলা যাবে, যখন তা 'ই-স্টেট’ (e-state)-এ পরিণত হবে। অর্থাৎ ঐ দেশের যাবতীয় কার্যাবলি যেমন- সরকারব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি প্রভৃতি কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট :- 

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। 

আরও পড়ুন :- রচনা : দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান [ Class 6, 7, 8, 9, 10 ]

এখন যদি সরকার বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে, তবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য তা স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অবশ্য ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দলসহ সবাই তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (Information Communication Technology বা সংক্ষেপে ICT) উন্নয়নকে মৌলিক ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। '

ডিজিটাল বাংলাদেশ' ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি :- 

একটি ডিজিটাল সমাজ নিশ্চিত করবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। যেখানে সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত অনলাইন প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত হবে। এক্ষেত্রে শক্তিশালী তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামো মূলভিত্তি। কঠিন বাস্তবতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশকে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' করতে গেলে এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশেষ নজর দিতে হবে। 

যেমন- একটি পরিপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামো গড়ে উঠার জন্য যথাযথ 'বিদ্যুতের ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। তাই বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে গুরুত্ব দিতে হবে। পুরো দেশকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। মূলত ইংরেজি ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার বিশ্বায়নকে ত্বরান্বিত করছে। তাই আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে ইংরেজি শিক্ষার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

সমুদ্র তলদেশের সাবমেরিন ক্যাবল প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়া আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। তবে উপরিউক্ত বিষয়গুলোই নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে ।

আরও পড়ুন :- কম্পিউটার : বাংলা প্রবন্ধ রচনা - Class 8, 9 এবং SSC | PDF

ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জন ও বাস্তবতা :- 

তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার। তবে তথ্যপ্রযুক্তির অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থা থেকে অনেকখানি দূরে। দেরিতে হলেও বাংলাদেশ সাবমেরিন ফাইবার অপটিক ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। 

তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ খুব কম। তাছাড়া উচ্চ মূল্যের কারণেও অনেকে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধান না হলে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপে গড়ার যে স্বপ্ন তা স্বপ্নই থেকে যাবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ :- 

ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমেই 'e-readiness' প্যান তৈরি করে তথ্যপ্রযুক্তিতে পারদর্শী মানবশক্তি তৈরি করতে হবে। ইন্টারনেট কাঠামোর উন্নয়ন ও ইন্টারনেটের ব্যয় সাধারণের সীমার মধ্যে এনে জনগণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা 

সর্বোপরি সরকারি, আধা- সরকারি ও বেসরকারি কাজে ইন্টারনেটের ব্যবহার করে স্বচ্ছতা আনা ইত্যাদি বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজেশনে সহযোগিতা করবে। গ্রাম ও শহর অঞ্চলের মধ্যে একটি ভালো যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত ও সহজলভ্য করতে হবে।

উপসংহার :- 

বর্তমান পৃথিবী তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবী। পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি- কেন্দ্রিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে। এ স্বপ্নকেই ধারণ করছে ডিজিটাল বাংলাদেশ ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url