বাংলা নববর্ষ/ পহেলা বৈশাখ- রচনা ২০০শব্দ (৩টি ) Class 3, 4, 5

বাংলা নববর্ষ রচনা - ১

সূচনা :- 

বাংলা বছরের প্রথম দিনটিই হলো বাংলা নববর্ষ । বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ নামে পরিচিত। এ দিনটি পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে সাদরে গ্রহণ করে ।

নববর্ষ উদযাপন :- 

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখের উৎসবের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মানুষের ভেতর নতুন করে কাজ করার উৎসাহ জাগায়। এ সময় ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ সর্বস্তরের মানুষ নববর্ষের আনন্দ-উদ্দীপনা নিয়ে রাস্তায় শোভাযাত্রা করে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে মুখে নানা রঙের মুখোশ পরে নাচানাচি ও আনন্দ-উল্লাস করে ।

নববর্ষের মেলা :- 

আমাদের দেশে নববর্ষে বিভিন্ন এলাকায় মেলা বসে । মেলা শুধু আনন্দ-উৎসবের জন্যই নয়। তাতে মানুষের প্রয়োজনও মিটে। এ মেলায় খেলনা, মাটির পুতুল, হাঁড়ি পাতিল, চুড়ি, ফিতা, মিষ্টিসহ অনেক কিছুই বিক্রয় হয়। এছাড়া যাত্রাপালা, বাউল গান, পুতুল নাচ প্রভৃতি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।

উপসংহার :- 

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখের আনন্দ সীমাহীন। এ থেকেই প্রমাণিত হয় যে এ উৎসবটি বাঙালি জাতীয় চিন্তা-চেতনা, কৃষ্টি-কালচারের এক বিশেষ দিক যা ধর্ম-বর্ণ ও সকল সম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে ।

বাংলা নববর্ষ রচনা - 

উপস্থাপনা :- 

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিই হলো পয়লা বৈশাখ । পুরো একটি বছরের দুঃখ-বেদনা, ক্লান্তি-নৈরাশ্য পেছনে ফেলে দিয়ে বছরের নতুন এ দিনটি যখন আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে উপস্থিত হয়, তখন আমরা আনন্দে মেতে উঠি, উৎসবে মুখর হই।

নববর্ষ উদযাপনের রীতি :- 

বাংলা নববর্ষের প্রবর্তন হয় ষোড়শ শতকে মোগল সম্রাট আকবরের সময়। তখন বাংলাদেশ ছিল মোগল সম্রাটের করদ (খাজনা দাতা) রাজ্য। খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বছরের এ শুষ্ক মৌসুমের প্রথম দিনটিতে অর্থাৎ পয়লা বৈশাখের দিনে জমিদাররা খাজনা আদায় করতো। জমিদারদের সভাঘরে বসত ‘পুণ্যাহ' ।

হালখাতা :- 

ব্যবসায় বাণিজ্যের এক বছরের লেনদেনের, লাভ ক্ষতির হিসাব মিটিয়ে বছরের নতুন দিনে হালখাতা খোলার রীতি এখন নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

আরও পড়ুন :- গ্রীষ্মকাল - বাংলা রচনা : ক্লাস ৩, ৪, ৫

বৈশাখী মেলা :- 

পয়লা বৈশাখের দিনটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোর থেকেই মেলা বসে। এ মেলায় মাটির, কাঠের, লোহার নানাবিধ আকর্ষণীয় খেলনা, সরঞ্জাম, তৈজসপত্র বিক্রয়ের জন্য আনা হয়। 

মুড়ি-মুড়কি, খইয়ের তৈরি নানা রকমের খাদ্যদ্রব্য, ফল ফলাদি বৈশাখী মেলাকে করে তোলে বৈচিত্র্যময়। গত কয়েক বছর থেকে আমাদের দেশে বৈশাখী লোক উৎসবও উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

বইমেলা :- 

রাজধানী শহর ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিবছর পয়লা বৈশাখের মেলায় বইমেলা বসে। এ বইমেলা পয়লা বৈশাখের একটি প্রধান আকর্ষণ ।

আঞ্চলিক উৎসব :- 

অঞ্চলভেদে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। যেমন : চট্টগ্রাম শহরে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় বিখ্যাত ‘বলী খেলা' (কুস্তি প্রতিযোগিতা)। ‘আবদুল জব্বারের বলী খেলা' নামে খ্যাত এ খেলা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ।

আরও পড়ুন :- শীতকাল - রচনা Class 3, 4, 5

উপসংহার :- 

বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ উদযাপন এদেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্য। নতুনকে গ্রহণ করার, পুরাতনকে মুছে ফেলার ও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষাও আমরা গ্রহণ করে থাকি নববর্ষ উদ্‌যাপনের মাধ্যমে।

বাংলা নববর্ষ রচনা - 

ভূমিকা :-

পৃথিবীর প্রত্যেক ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষেরই বছরে এক বা একাধিক ধর্মীয় বা সামাজিক উৎসব আনন্দ থাকে। সে ধারাক্রমে পৃথিবীর সব দেশেই নতুন বছরের দিনটি উৎসবের দিন হিসেবে পালন করা হয় । 

পৃথিবীব্যাপী এ নববর্ষ উৎসব পালন করে । কোন কোন জাতি তাদের নিজ নববর্ষ সাদামাটাভাবে পালন করলেও ইরান, চীন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের মহা জাঁকজমকের সাথে এ উৎসব পালনের ঐতিহ্য রয়েছে।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস :- 

পৃথিবীর প্রায় সব জাতিই তাদের নিজ নিজ বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করে নেয় । প্রাচীনকাল থেকে এরূপ বর্ষবরণের প্রথা চলে আসছে। পৃথিবীর এক এক জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এ নববর্ষ বা বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করে নেওয়ার ইতিহাস জড়িয়ে আছে। 

আরও পড়ুন :- বর্ষাকাল - রচনা : ক্লাস 3, 4, 5

প্রাচীন সভ্যতার অধিকারী মিসরীয়, ফিনিশীয় ও ইরানিরা যেমন বহুকাল আগে থেকে তাদের নববর্ষ পালন করে আসছে তেমনি তাদেরও আগে গ্রিক ও রোমকরা যীশুখ্রিস্টের জন্মের পঞ্চম শতাব্দী আগে থেকে এরূপ উৎসব পালন করতো বলে জানা যায়। প্রাচীন আরবীয়রা ‘ওকাজ' মেলা, ইরানীয়রা 'নওরোজ' উৎসব ও প্রাচীন ভারতীয়রা ‘দোল’ পূর্ণিমার দিনে নববর্ষ উদ্‌যাপন করতো। 

নববর্ষ পালনের তাৎপর্য :- 

পৃথিবীর নানা দেশের নানা জাতির মধ্যে নববর্ষ উদযাপনের সময়ের বিভিন্নতা ও রকমফের যতই থাকুক না কেন এ বিশেষ দিনটি যে আনন্দের সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। পুরাতনকে ধুয়েমুছে মানুষ যে চিরকাল নতুনের স্বপ্ন রচনা করে চলছে- এ তাৎপর্যটি নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে লুকিয়ে আছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তাই নববর্ষের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন-

এসো, হে বৈশাখ 

এসো, এসো,

উপসংহার : 

‘পহেলা বৈশাখ' উপলক্ষ করে গ্রাম ও শহর বাংলার সর্বত্রই মানুষের মাঝে উৎসবের বন্যা বয়ে যায়। এতে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোক সমভাবে অংশ নেয়। কোথাও বা মেলার আয়োজন হয়। এভাবেই পালিত হয় আমাদের নববর্ষ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url