ভাব সম্প্রসারণ - অর্থ অনর্থের মূল

মূলভাব :

যে অর্থ মানব জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে আবার সে অর্থই কখনো কখনো অকল্যাণের কারণ হয়ে দেখা দেয়। এজন্যই বলা হয়ে থাকে যে অর্থই সকল অনর্থের মূল। 

সম্প্রসারিত ভাব : 

সুন্দর এবং স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য অর্থের প্রয়োজন  অবশ্যই রয়েছে , এ অর্থই আবার অনর্থের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ অর্থের মোহে পরে , ভাই ভাইকে, পিতা পুত্রকে, স্ত্রী স্বামীকে, বন্ধু বন্ধুকে চিনে না। পৃথিবীতে যতো অকল্যাণকর দিক আছে তার অধিকাংশ এ অর্থের কালোহাতে সংগঠিত হচ্ছে। 

অর্থ মানুষের জ্ঞান, বিবেক নষ্ট করে মানুষকে অমানুষে রূপান্তরিত করে। অর্থের লোভে পড়ে মানুষ জঘন্য খারাপ কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না।এ অর্থেই সমাজের আইন-কানুন প্রেম-প্রীতি ও মানবিকবোধ নষ্ট করে দেয়। অর্থের কুপ্রভাব মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে। 

অর্থ সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সকল প্রকার প্রয়োজন মিটায় ঠিকই, কিন্তু এ সকল জীবনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডগুলোও অর্থের কারণে সংগঠিত হয়ে থাকে। পৃথিবীতে অর্থের প্রয়োজন না থাকলে ঝগড়া-বিবাদ কিছুই হতো না । অতএব, এক বাক্যে বলা যায় যে অর্থই সকল অনর্থের মূল ।

মন্তব্য :

অর্থ মানুষের কল্যাণ সাধন করলেও এর কুপ্রভাব মানব জীবনে অন্ধকার ডেকে আনে। জগতের সকল অনর্থের মূলে রয়েছে অর্থ ।

আরও পড়ুন :- ভাবসম্পসারণ - চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ  

- একই ভাব সম্প্রসারণ এর অন্য আর একটি প্রতিলিপন -

মূলভাব :

আমরা জানি যে জীবনে চলতে গেলে অর্থের প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। আর এই অতিরিক্ত অর্থ ও অনর্থের রোষানলে পরে মানুষের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। 

সম্প্রসারিত ভাব:

জীবন চলার জন্য অর্থের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য ও অপরিসীম। প্রার্থীব জীবনে মানুষের একান্ত কাম্য হচ্ছে অর্থ উপার্জন করা। অর্থ সম্পদের মোহে পড়ে মানুষ জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হয়। মানুষ তার কাঙ্খিত অর্থ উপার্জনের জন্য কত কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন। নানা প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করেন এই অর্থের জন্যই। 

বর্তমান পৃথিবীতে একমাত্র অর্থের মাপকাঠি দ্বারাই মানুষের প্রতিপত্তি ও মান সম্মান নিহিত হয়ে থাকে।যার কাছে অর্থ রয়েছে সবাই তাকে সম্মান করে ভালোবাসে। আর যার কাছে অর্থ নেই কেউ তাকে সম্মান করে না গুরুত্ব দেয় না এবং ভালোও বাসেনা।  

অর্থের লোভে পড়ে মানুষ নানা দুস্কর্মে লিপ্ত হয়। পৃথিবীর বুকে যত দ্বন্দ্ব, অশান্তি ও সংঘাত রয়েছে এর মূলে রয়েছে অর্থ। অর্থ সম্পদের জন্য রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের মত উন্মাদনা জাগে। শ্রমিক এবং মালিকের মধ্যে মতবিরোধ বাঁধে। ভাইয়ে ভাইয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। অর্থের লোভেই মানুষ মানুষকে খুন করে। 

তাই জগতের সব অশান্তি অনর্থের মূলেই অর্থ। অর্থের লোভেই সীমার ইমাম হোসেনকে হত্যা করেছিল। অর্থের লোভেই মানুষ নৈতিকতা বর্জন করে। অর্থই মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। আর এই অর্থ মানুষকে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়। তাই মীর মশাররফ হোসেন দুঃখ করে বিষাদ সিন্ধু গ্রন্থে বলেছেন,--" হায়রে পাতকী অর্থ। তুই জগতে সকল অনর্থের মূল। "

মন্তব্য : 

অর্থ উপার্জন করতে হবে হালালভাবে। তাহলে সেটার মধ্যে আল্লাহ বরকত দেবেন। হারাম উপায়ে কোন অর্থ উপার্জন করা যাবে না। তাহলে সে অর্থে ভালোর থেকে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url