রচনা : মাদ্‌রাসা শিক্ষা / মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়াজনীয়তা

উপস্থাপনা :

"Education is the backbone of a nation." অর্থাৎ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা বিভিন্ন প্রকার । বিভিন্ন প্রকার শিক্ষার মধ্যে ইসলামী শিক্ষা অন্যতম । ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র মাদ্রাসা । মহান আল্লাহর মনোনীত শ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।

মাদ্রাসা শিক্ষা :-

বাংলাদেশের শিক্ষা পদ্ধতিকে সাধারণত দুটি ধারায় ভাগ করা হয়েছে, একটি সাধারণ শিক্ষা অনটি মাদ্রাসা শিক্ষা । ইসলাম ধর্মের বিধানানুযায়ী যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মাদ্‌রাসা বলে ।

মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাস : 

পৃথিবীর প্রাচীনতম শিক্ষা পদ্ধতিই মাদ্রাসা শিক্ষা। মানব সভ্যতার আদিকাল থেকেই মাদ্রাসা শিক্ষা বিদ্যমান ছিল। খ্রীস্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর আগে বসরাতে একটি বিরাট মাদ্রাসা ছিল, তাতে বায়ান্নটি বিষয় পড়ানো হতো। এদেশে ইংরেজদের নাস্তিকতাবাদী শিক্ষার মূলে কুঠারাগাত করার জন্য এদেশে ইসলাম প্রিয় মানুষ ইসলাম রক্ষার্থে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রবর্তন করেন।

আরও পড়ুন :- আমাদের মাদরাসা রচনা [ ক্লাস ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ] 

মাদ্রাসা শিক্ষার প্রকার : 

আমাদের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১. কাওমী মাদ্রাসা, ২. হাফেজী মাদ্রাসা, ৩. আলিয়া মাদ্রাসা। 

১. কাওমী মাদ্রাসা : কাওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন মাসালা মাসায়েল শিক্ষা দেয়া হয় ৷

২. হাফেযী মাদ্রাসা ঃ হাফেযী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কুরআন হেফয করা হয় । এ মাদ্রাসা থেকে হাজার হাজার হাফেজ আল্লার কালাম মুখস্ত করে বের হয়।

৩. আলিয়া মাদ্রাসা ঃ এ শিক্ষা পদ্ধতিতে, কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আরবি, বাংলা, ইতিহাস, ভূগোল, ইংরেজি, অংক, বিজ্ঞান, সমাজ ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয় । আসলে এটি সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার মিলিত রূপ । আমাদের দেশে এ শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি স্বীকৃতি প্রাপ্ত । এর জন্য সরকারি নীতিমালা আছে। 

মাদ্রাসায় শিক্ষিত কতিপয় মনীষীর নাম ঃ 

হযরত বড় পীর আবদুল কাদির জিলানীসহ পৃথিবীর তাবৎ পীর দরবেশ ও আউলিয়া কেরাম মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন । শেখ সাদী, হাফিজ, খৈয়াম, ফেরদৌসী, ইবনে সিনা, রুশদ, খালদুন, ইমাম গাজ্জালী, রুমী, জামী প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত মনীষী মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেছেন ।

আরও পড়ুন :- বাংলা রচনা : ঈদে মিলাদুন্নবী ক্লাস ৬, ৭, ৮, ৯, ১০  

মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ঃ 

আল্লাহর বিধান মত চলতে, মানুষের পার্থিব কল্যাণ এবং পারলৌকিক মুক্তির জন্য মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মাদ্রাসা শিক্ষাই মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয় । মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ হালাল-হারাম, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, মাকরুহ, ভাল মন্দ শিখে । তাই মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য

মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের উপায় ঃ 

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মাদ্রাসাসমূহে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার মান স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দিতে হবে । প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি দিতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে অসৎ লোকদের অপসারণ করতে হবে ।

উপসংহার ঃ 

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যতীত মুসলমানগণ পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা লাভ করতে পারে না। মুসলমানদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। মাদ্‌রাসা শিক্ষা ধর্মীয় চিন্তাবোধ, ব্যক্তিত্বরোধ, সৎপথে উপার্জনের নিয়মাবলি শিক্ষা দেয় ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শিক্ষাগার ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url